তুমি যদি একজন সমস্যার সমাধানকারী হও যে কিনা বিভিন্ন সমস্যা সমাধান অথবা কোন কাজকে সহজ করে তুলতে পছন্দ করো তবে তুমি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সফল ক্যারিয়ার পেতে পারো।
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং হল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর এমন একটি শাখা যেখানে সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনগুলো ডিজাইন, নির্মাণ, পরীক্ষণ এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কাজ করা হয়। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা ব্যবহারকারীদের জন্য সফটওয়্যার সমাধান তৈরি করতে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা ও প্রোগ্রামিং জ্ঞানের প্রয়োগ করে।
সফল দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা জানেন কিভাবে সঠিক প্রোগ্রামিং ভাষা, প্ল্যাটফর্ম এবং আর্কিটেকচার ব্যবহার করে কম্পিউটার গেম থেকে শুরু করে নেটওয়ার্ক কন্ট্রোল সিস্টেম এর মত জটিল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে হয়। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা তাদের নিজস্ব সিস্টেম তৈরির পাশাপাশি অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারদের তৈরি বিভিন্ন সফটওয়্যার পরীক্ষা, আপডেট ডেভেলপমেন্ট ও এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এর কাজ করে থাকেন।
Meta এর একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মুরতাদা আল-তামিমি বলেছেন, ” সমস্যা সমাধান করা লাগে এ ধরনের কোন কিছু দেখলেই আমি অনেক উত্তেজিত হয়ে পড়ি, কারণ তা থেকে আমি একটি অ্যাপ্লিকেশনের নতুন ফিচারস অথবা ওই সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন অ্যাপ্লিকেশন কিভাবে নিয়ে আসা যায় তা নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করি।”
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তোমার প্রতিদিনকার কাজগুলো হতে পারে :
  • নতুন সফটওয়্যার সিস্টেম ডিজাইন ও মেনটেনেন্স
  • নতুন সফটওয়্যার প্রোগ্রাম তৈরি ও তা পরীক্ষা করা
  • কোড লেখা ও তা পরীক্ষা করা
  • ক্লায়েন্ট, ইঞ্জিনিয়ার, সাইবার এক্সপার্ট ও অন্যান্যদের সাথে সফটওয়্যার এর উন্নতি নিয়ে পরামর্শ করা।
  • গ্রাহককে সফটওয়্যার এর বিভিন্ন নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য এবং এর কাজ উপস্থাপন করা।
সাধারণত একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এই প্রধান কাজ গুলোই করে থাকে।
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা সাধারণত দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি নিয়ে পড়ালেখা ও দক্ষতা অর্জন করেন, তা হলো সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট এবং অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট। একজন সিস্টেম ডেভলপার অর্থাৎ ব্যাকএন্ড ইঞ্জিনিয়ার সাধারণত কম্পিউটার সিস্টেম ও নেটওয়ার্ক এর মত জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করে। আর একজন অ্যাপ্লিকেশন ডেভলপার সাধারণত কম্পিউটার সফটওয়্যার ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর মত জিনিস গুলো নিয়ে কাজ করে।
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে কত সময় লাগে?
চার বছরের সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিজ্ঞানের Bsc ডিগ্রি নেওয়া উচিত। কিছু শিক্ষার্থী তাদের কোর্সকে চ্যালেঞ্জিং মনে করতে পারে এবং তাদের শেখার এবং বোঝার জন্য আরও বেশি সময় বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তবে এখনও প্রায় চার বছরের মধ্যে শেষ করতে সক্ষম হওয়া উচিত।
প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে শিখুন
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে শেখা অত্যন্ত জরুরি। একজন ভালো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে হলে তাকে ভালো প্রোগ্রামার হতে হবেই। এর জন্য এক বা একাদিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে এ আপনার দক্ষতা দরকার।যত বেশি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে আপনি জানবেন পেশা হিসাবে আপনার কাছে এটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে এর মধ্যে শেখা দরকার :Python, JavaScript, C#, C++, Ruby, Javaএর মধ্যে Python,জাভাস্ক্রিপ্ট,CSS ,HTML আপনাকে জেনে রাখতে হবে।
কোনো বেসিক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজে এগুলি অনেক ব্যাবহার হয়। এছাড়া ডাটা সাইন্স আর মেশিন লার্নিং ,আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ক্ষেত্রেও Python,R এর ব্যাবহার অনেক। আর যেহেতু সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়টি কোর তথ্যপ্রযুক্তি এর মধ্যে পরে তাই এর জন্য বিষয় গুলি সবসময় আপডেট হতে থাকে। তাই আজকে আপনি যদি কোনো একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে এর একটি ভার্সন শিখলেন,সেটি আবারো কিছুদিন পরে আপডেট হলে শিখে নিতে হবে। তাই এই পরিবর্তন এর সাথে আপনাকে মানিয়ে নিতে হবে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পর চাকরির সুযোগ হিসাবে দেশ বিদেশে অনেক আছে. দেশের মধ্যে বড় বড় IT কোম্পানি যেমন TCS ,IBM ,Accenture এ অনেক ভালো মানের চাকরি পাওয়া যায়। অনেক সময় কলেজ ক্যাম্পাসিং থেকে এই সুযোগ চলে আসে কোর্স করতে করতেই। তাই ভালো ভাবে কোর্স /ডিগ্রী শেষ করলে চাকরির অভাব হয় না।
Writer : Iftakhar Ahmed
Home
Account
Course
Search