ড্রপ শিপিং কি?

ড্রপ শিপিং হলো কোনো সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান অথবা যেকোন বিশ্বাসযোগ্য ই-কমার্স ওয়েবসাইটের পণ্য আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটে প্রচার করে বিক্রয় করাকে ড্রপ শিপিং বলা হয়ে থাকে। ড্রপ শিপিং এর জন্য আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকা বাধ্যতামূলক বটে।

আপনি কোনো একটা ই-কমার্স ওয়েবসাইট ( যেমন- আলিবাবা, আলী এক্সপ্রেস বা অ্যামাজন ) এমন যে কোনো একটি ই-কমার্স সাইটের পণ্য আপনার ওয়েবসাইটে দেখিয়ে বিক্রি করে দিলেন। কাস্টমার কিন্তু আপনার কাছ থেকে পণ্য কিনলো এবং আপনাকে পেমেন্ট করবে। আপনি তার সেই পণ্যের অর্ডারটি অন্য কোনো সাইট এ অর্ডারটি সাবমিট করে দিলেন। ওই সাইড থেকে পণ্য আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটিতে আপনাকে দেয়া ক্রেতার নাম ও ঠিকানা অনুযায়ী ঐ পণ্যটি পৌঁছে দিলেন। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই বলে দিতে হবে যে, ওই মাদার ওয়েবসাইট যেন কোনো রকম নিজেস্ব প্যাকেট ব্যবহার না করে। মূলত এটিই ড্রপ শিপিং।

মাঝখান থেকে আপনি কিছু প্রফিট করলেন। তবে লক্ষনীয় বিষয় হলো আপনি যেসকল সাইটের পণ্য নির্বাচন করবেন সেগুলোর দাম এবং পণ্যের মান আপনাকে ভালোভাবে আগে থেকেই যাচাই করে নিতে হবে। ক্রেতারা আপনার ওয়েবসাইট থেকে প্রোডাক্ট কিনবে কারণ সে আপনাকে বিশ্বাস করছে। তাই আপনাকে বিশ্বাস অর্জনের জন্য পণ্যের মূল্যের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ড্রপ শিপিং অনেকটা দালালি ব্যবসার মতই। আপনি অন্য কোন একটি ওয়েবসাইটের পণ্য কাস্টমারের কাছে বিক্রি করে কিছু প্রফিট তুলে নিলেন, এখানে আপনাকে বিনিয়োগ বলতে শুধু আপনার একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট মাত্র। মূলত পণ্য আপনাকে কিনতে হচ্ছে না ৷ উদাহরণস্বরূপ : একজন জমির দালাল জমি দেখিয়ে বিক্রি করে দিয়ে লাভ করে থাকে, ড্রপশিপিং অনেকটা তেমনি। মোট কথা হলো- অন্যের ই-কমার্স ওয়েবসাইটের পণ্য আপনার নিজের ই-কমার্স ওয়েবসাইটে প্রদশর্ন করবেন। এখানে শুধু পণ্যটির আসল দাম যা তা থেকে মানানসই ভাবে একটু দাম বেশি করে আপনার ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করতে হবে। অতিরিক্ত দামটুকুই আপনার লাভ। এজন্য আপনাকে ভালো মতো ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

সোজা বাংলা ভাষায় ড্রপ শিপিং কি ?

একদম সহজভাবে বলতে গেলে, আপনার নিজের স্টোরে কোন প্রোডাক্টের তথ্য রাখবেন এরপর ক্রেতা গণ আপনার স্টোরে প্রবেশ করে সেই পণ্যটি ক্রয় করতে অর্ডার করল এবার আপনি একজন সরবরাহকারীর নিকট থেকে উক্ত পন্যটি কিনে তা আপনার ক্রেতার নিকট পাঠিয়ে দিলেন এই প্রক্রিয়াটাই আসলে ড্রপশিপিং। এবার আসি মুনাফার কথায়, ধরুন পন্যটি আপনার স্টোরে আপনি $২০ বিক্রয় করতে চাচ্ছেন কিন্তু পণ্যটির আসল দাম $১৫ এবং ক্রেতা $২০ দামেই পণ্যটি কিনবে আপনার স্টোর থেকে তাহলে আপনার মুনাফা কত হলো? হ্যাঁ $৫, এটাই আপনার মুনাফা । আশা করি, ড্রপ শিপিং ব্যাপারটা আপনার বুঝে এসেছে ৷ 

আজকের ব্লগ এতটুকুই আগামী ব্লগে ড্রপ শিপিং নিয়ে আরো ব্লগ আসবে ইনশাআল্লাহ

————————————————————————

-বিগত ব্লগে আমরা জেনেছি Dropshipping জিনিস টা কি? কিভাবে কাজ করে ইত্যাদি। So, আজকে আমরা  জানব, Dropshipping করে কিভাবে ইনকাম করতে হয়, এবং এটার সুবিধা-অসুবিধা A to Z ।  যারা ঐ ব্লগটি পড়েন নাই তারা——–এই লিংকে গিয়ে পড়ে আসুন।

তো শুরু করা যাক-

সুবিধাসমূহ: –

১. শুরু করা অত্যন্ত সহজ :

ড্রপ শিপিংয়ে আপনাকে পণ্য কিনে স্টক করে রাখার জন্য কোনো টাকা খরচ করতে হয় না। তাই, শুধু হোস্টিং, ডোমেইন এবং ওয়েব ডেভেলপ করতে যে খরচ করতে হয় তা করলেই হয় ৷ অতিরিক্ত আর কোনো ব্যয় নেই ৷ ফলে আপনার ব্যবসায় মুনাফা কমার ঝুঁকি কম

২. স্বল্প মূলধন প্রয়োজন :

ড্রপ শিপিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কয়েক লক্ষ টাকা বিনিয়োগ না করেই একটি ই-কমার্স সাইট চালু করা যায়। স্বাভাবিক ভাবেই খুচরা বিক্রেতাদের বিপুল পরিমাণ মূলধন পণ্য কিনে স্টক করে রাখতে খরচ করতে হয়। ড্রপ শিপিংয়ে আপনার কোন পণ্য বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত, নতুন কোনো পন্য কিনতে হয় না ৷ ক্রেতাদের টাকা দিয়েই পণ্যের দাম পরিশোধ করতে পারবেন

৩. ন্যূনতম ঝুঁকি :

একটি ড্রপ শিপিং ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিনামূল্যে শুরু করা যেতে পারে। কেবলমাত্র একটি ডোমেন এবং ভালো হোস্টিং নিতে হবে ৷ নতুবা ব্যবসা হারিয়ে যেতে পারে, পরে ব্যবসায়টি আর সম্প্রসারণ করা সম্ভব নয় ৷ আবার আপনি যদি লাভ করতে সক্ষম না হন, তবে আপনি সহজেই কোনো ঝুঁকি ছাড়াই ফিরে আসতে পারবেন।

৪. সরবরাহকারী এবং ড্রপশিপিং সাইটের সুবিধা :

ড্রপশিপারকে পণ্য পরিবহণ এবং প্যাকেজিং সম্পর্কে চিন্তা করতে হয় না ৷ সরবরাহকারী পণ্য বিপণন এবং প্রচার উভয়ই করে থাকে ৷ ড্রপ শিপাররা একবারে একাধিক পাইকারদের সাথে কাজ করতে পারে।

৫. মাথা কম খাটানো লাগে :

যেহেতু আপনাকে মাল কেনা কিংবা গুদাম পরিচালনা করার দরকার নেই, সেহেতু আপনার মাথা খাটানো লাগবে না বেশি । প্রকৃতপক্ষে, অনেক সফল ড্রপশিপিং স্টোর বাড়ি বা বাসা-ভিত্তিক ব্যবসা হিসাবে পরিচালিত হয়, এটি পরিচালনা করতে একটি ল্যাপটপ হলেই চলে এবং অপারেট করার জন্য কয়েকটি জিনিসের জন্য খরচ করতে হয়।

৬. নমনীয় অবস্থান :

একটি ড্রপ শিপিং ব্যবসায় যেকোনো জায়গায় করা যায় ৷ শুধু ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন ৷ আপনি চাইলে সরবরাহকারী ও ক্রেতা উভয়ের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন এবং ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন

৭. একাধিক পণ্য বিক্রি করা :

যেহেতু পূর্বে আপনাকে কোনো পণ্য অগ্রিম কিনতে হয় না, তাই আপনি যেকোনো পণ্যের অফার দিতে পারবেন ড্রপ শিপিংয়ে ৷ আপনার স্টকে যদিও কোনো পণ্য থাকে সেটাও কিন্তু বিক্রি করতে পারবেন ৷ এজন্য আপনাকে আলাদা করে কোনো খরচ করতে হবে না ৷

৮. যাচাই করা সহজ :

ড্রপশিপিংয়ের মূল সুবিধা হলো, বিপুল পরিমাণে পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে পণ্যগুলি তালিকাভুক্ত করণ এবং সম্ভাব্য ভাবে বিক্রয় করার ক্ষমতা ৷

-তো আমরা Dropshipping-র অনেক সুবিধা নিয়ে জানলাম । এখন Dropshipping-র কিছু অসুবিধা জেনে আসি-

১. তুমুল প্রতিযোগীতা

প্রায় সকল ই-কমার্স ব্যবসাতে রয়েছে ব্যাপক প্রতিযোগীতা ৷ এই কারণে অনলাইন স্টোরের মালিকগণ মানসম্মত সেবা প্রদান করে ব্যবসা দাঁড় করাতে পারে এবং পণ্য কিনতে ক্রেতারা বেশি পছন্দ করে থাকে ৷ অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা একজন ড্রপ শিপারের সমস্যা হতে পারে যদি ঐ ব্যক্তি তাদের পণ্য বিপণন সম্পর্কে সতর্ক না হয় ।

২. মুনাফা কম

হ্যাঁ! অধিকাংশ ড্রপ শিপারদের প্রবণতা হলো হাল ছেড়ে দেওয়া কারণ মুনাফা খুব কম ৷ যাই হোক, আপনি যদি এটি আন্তরিকতার সঙ্গে করেন, ড্রপ শিপিং কোনো ক্ষণস্থায়ী ব্যবসায় নয় ৷ এটি সব সময় লেগে থাকা এবং ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার মতো। আপনি কীভাবে নিম্ন মুনাফার মার্জিনকে বিশাল আকারে পরিণত করবেন তা চিন্তা করুন ৷  আপনি যদি প্রতিদিন ১০ টি পণ্য বিক্রি করে থাকেন তবে  এটি ৫০ স্কেল এ  করুন এবং এতে আপনার লাভের পরিমাণ বেশি হবে।


৩. পণ্যের সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতা

ড্রপশিপিং হলো এমন একটি ব্যবসা যেখানে আপনি এমন কোনো পণ্য বিক্রি করবেন যা আপনি আসলে দেখেন নি। অতএব, পণ্যের ব্যর্থতার সম্ভাবনা বেশি। যখন এটি ঘটে তখন গ্রাহকের কাছে আসল পরিমাণ ফেরত দেওয়া এবং সরবরাহকারীর কাছে পণ্যটি ফিরিয়ে দেওয়ার পুরো দায় আপনার উপর বর্তায়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনি আতঙ্কিত হওয়া শুরু করবেন। পরিবর্তে, একটি ৩০ দিনের রিফান্ড নীতিমালা তৈরি করুন যাতে গ্রাহক পণ্যটি (যদি) ক্রয় করে সন্তুষ্ট না হন তবে তা ফিরিয়ে দিতে পারে।

৪. অর্ডার পরিচালনা করা ক্লান্তিকর হতে পারে

বেশিরভাগ ড্রপশিপার তাদের চুল টানবে এমন এক সময় যখন তাদের কোনো পণ্য ভাইরাল হয়। তাদের তখন হাজার হাজার অর্ডার পূরণ করতে হয় এবং অর্ডার পরিচালনা করা একটু কঠিন কাজ হতে পারে। তবে অনেক ড্রপশিপিং প্লাগইন রয়েছে যা আপনাকে সাহায্য করবে।

৫. শিপিং জটিলতা

আপনি যদি একাধিক সরবরাহকারী সাথে কাজ করেন এবং আপনার অনলাইন স্টোরের পণ্যগুলো বিভিন্ন ই-কমার্স এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় তবে এটি আপনার শিপিংয়ের খরচ কে জটিল করে তুলবে।
ধরা যাক যে, কোনো গ্রাহক তিনটি আইটেমের জন্য একটি অর্ডার রাখে, সেগুলি কেবল পৃথক পৃথক সরবরাহকারীদের থেকে পাওয়া যায় ৷ প্রতিটি আইটেম গ্রাহককে প্রেরণের জন্য আপনাকে তিনটি পৃথক শিপিং চার্জ নিতে হবে, তবে গ্রাহককে এই চার্জটি প্রদান করানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এমনকি যখন এই চার্জগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তখন এই হিসাবগুলো বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।

-এখন আমরা জানব Dropshipping করে কি আসলে-ই ইনকাম করা যায় ?

আপনার ব্যবসা নিবন্ধন করুন :

বর্তমান বাংলাদেশ আইনের অধীনে আপনাকে যে কোনও ব্যবসায় নিবন্ধন করতে হবে। আপনার ব্যবসায়ের নিবন্ধকরণের আরও অনেক উপায় রয়েছে। আমি কীভাবে বাংলাদেশে কোনও ব্যবসা বা সংস্থা নিবন্ধন করতে পারি সে সম্পর্কে আমার ওয়েবসাইটে আপনার জন্য  কিছু নিবন্ধ লিখেছি। আপনি কর্পোরেট বিষয়ক বিভাগের পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে একটি ব্যবসা নিবন্ধন করতে পারেন। আপনার সরাসরি শিপিং ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে নিবন্ধকরণ বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত, তবে বাংলাদেশ এখনও নিবন্ধকরণ কার্যকর করেনি।

২. একটি চলতি অ্যাকাউন্ট খুলুন :

আপনি এখানে অর্থ উপার্জন করতে এসেছেন। সুতরাং, পরবর্তী পদক্ষেপটি হলো বাংলাদেশের যে কোনো ব্যাংকের সাথে একটি চলতি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। কারণ তাদের বিশ্বব্যাপী শাখা এবং ব্যাংকগুলির বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। সরবরাহকারীদের কাছে রেমিট্যান্স সরবরাহ করতে পারবেন। এছাড়াও, বিদেশী লেনদেনে একটি খরচ আছে সে দিকে খেয়াল রাখুন। কিছু ব্যাংক রেমিট্যান্সের জন্য বাড়তি ফি চার্জ করে, প্রতি লেনদেনের জন্য ৮০ থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা পর্যন্ত।
মনে রাখবেন, এই ব্যয়গুলি আপনার লাভ থেকে বের করে আনতে হবে।

৩. একটি পেপাল অ্যাকাউন্ট খুলুন :

আপনি যদি বাংলাদেশে ড্রপ শিপিংয়ের ব্যবসা শুরু করতে চান তবে আপনাকে একটি পেপাল অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
প্রায়ই, বিদেশী সরবরাহকারীরা আপনার আদেশ কৃত পণ্যগুলির জন্য অর্থ দ্রুত গ্রহণ করতে চায়।
এবং কিছু কিছু বিদেশী সরবরাহকারী কেবল পেপালের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের জন্য অনুরোধ করবে। পেপাল একটি দ্রুত গ্লোবাল পেমেন্ট গেটওয়ে। সুতরাং, এটি বিশ্বব্যাপী ড্রপশিপিং ব্যবসায়ে খুব জনপ্রিয়। পেপাল অ্যাকাউন্ট খুলতে আপনার জিএসটিআইএন নম্বর এবং অন্যদের মধ্যে কারেন্ট অ্যাকাউন্টের বিশদ প্রয়োজন। পেপাল আপনার আবেদন গ্রহণ করার আগে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করবে। অবশ্যই, পেপাল আপনার একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিতে আপনার অনুমতি চাইবে এবং আপনার ব্যাংক অন্য কাউকে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করার অনুমতি দেয় না।

So, আমরা আজকের ব্লগে অনেক কিছু যেনে ফেললাম- এই ভাবে আরও Informative ব্লগ, টিপস এন্ড ট্রিক্স পেতে চাইলে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে। যদি আজকের ব্লগ টি ভালো লাগে তাহলে আপনার বন্ধু-বান্ধবদের কাছে শেয়ার করতে ভূলবেন না।

This Blog Edited By Sourov Dey

-ধন্যবাদ সবাইকে