মোবাইল অ্যাপস কি?

সাধারণত মোবাইল অ্যাপস আমরা সবাই চিনি। বর্তমান যুগে বেশি চলছে Android-র ব্যবহার । আর তাই অ্যাপস কি কাজে ব্যবহার হয়, তা আর কারো অজানা নেই । আমরা প্রতিনিয়ত যে অ্যাপসগুলো ব্যবহার তার মধ্যে হলো, ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ, নগদ , ইনস্টাগ্রাম , ক্যামেরা ইত্যাদি আর ও অনেক আছে । আমরা সবসময় শুধু ব্যবহারের পারদর্শী হই । কিন্তু তৈরি কিভাবে করে বা কেন তৈরি করে কে তৈরি করে তা তেমন কিছু ঘাটাঘাটি করি না। যেটি আমাদের একটি চরম মাত্রায় ভুল ও বোকামী। এক বার ভাবুন তো, ফেইসবুক নির্মাতা মার্ক জুকারবার্গ কি সব একা তৈরি করেছিলেন ? ফেইসবুক তৈরি করতে প্রায় ৫ জন ডেভেলপার ছিল। ফেইসবুক ওয়েবসাইট তৈরি করে , মোবাইলে অ্যাপস টি ও মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ সব কি তিনিই নিজের হাতে তৈরি করেছেন ? না কখনো না। তিনি বিভিন্ন কাজ তার কর্মচারীদের দিয়ে করিয়ে থাকেন ।

সাধারণত এসব কাজ করে নেওয়ার জন্য যেমন ফেইসবুক নির্মাতা তার কর্মচারীদের পেমেন্ট করেন , ঠিক তেমনি এই পৃথিবীতে লাখ লাখ কোম্পানি এজেন্সি ও সার্ভিস প্রদানকারী রয়েছে, যারা তাদের কোম্পানী ও সার্ভিস মানুষের হাতের কাছে খুব সহজেই পৌঁছে দেওয়ার জন্য মোবাইল অ্যাপস তৈরি করে নেয় । যেমন ধরুন, Daraz.com একটি প্রোডাক্ট কেনার ওয়েবসাইট। এখানে ভিজিট করলে আমরা অনলাইনের মাধ্যমে প্রোডাক্ট কিনতে পারি। কিন্তু এই ওয়েবসাইটের আবার অ্যাপস Daraz কেন? তাহলে এখনোই থেকে আমরা বুঝতে হবে যে প্রতিটি কোম্পানীর এখন তাদের অ্যাপস তৈরি করিয়ে নিচ্ছে। আর আমরা সেটি করে দিচ্ছে তারা যারা আজ অ্যাপস ডেভেলেপার ।

একটি ই-কর্মাস ওয়েবসাইটের অ্যাপস তৈরি করতে পারলে মিনিমাম ৩০০০ ডলার পর্যন্ত ইনকাম করা সম্ভব। যা বাংলা টাকাই দুই লাখ চল্লিশ হাজার টাকা ।

অ্যাপস ডেভেলমেন্ট শিখতে হলে যা যা শিখতে হবে, নিচে তা একটু OverView দেওয়া হলো।

  • JAVA
  • SQL
  • XML
  • Android Studio Software
  • Web Development
  • And More Apps Development Software if Needed
  • JavaScript Framework React Native (Better)

উপরের স্কিল গুলো জানা থাকলে একটি ডাইনামিক অ্যাপস তৈরি করা সম্ভব।

-এখন একটু ল্যাংগুয়েজ গুলোর OverView নিচে দেওয়া হলো।

JAVA: JAVA একটি জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ যেটি ব্যবহার করে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপস , ডেস্কটপ অ্যাপস, গেমস, ওয়েব অ্যাপস ইত্যাদি বানানো যায়।

1991 সালে MicroSystem Incorporation নামক কোম্পানি। JAVA ল্যাংগুয়েজ আবিষ্কার করেন যার নির্মাতার নাম হলো James Gosling.

SQL : SQL সর্বপ্রথম সংস্করণটি IBM তৈরি করে এর স্যান জোসি গবেষণাগারে (বর্তমানে এলমাডেন গবেষণাকেন্দ্র)। ৭০’র দশকের প্রথমদিকে আইবিএম তার সিস্টেম আর প্রোজেক্ট এর অংশ হিসাবে এসকিউএল তৈরি করে। তখন এর নাম ছিল সিকুয়েল। এই সিকুয়েল ভাষাটিই সময়ের সাথে সাথে পরিবর্ধিত এবং পরিমার্জিত হয়ে বর্তমানে এসকিউএল(স্ট্রাকচার্ড কুয়েরি ল্যাংগুয়েজ) নামে পরিচিতি পেয়েছে। অনেক সফটওয়্যার পণ্য এখন এসকিউএল কে সাপোর্ট করে থাকে। বর্তমানে অবসংবাদীভাবে SQL আদর্শ রিলেশন্যাল-ডেটাবেজ ভাষা।

XML : XML এর পূর্ণরূপ হচ্ছে, Extensible Markup Language. XML, HTML এর মতই একটি মার্কআপ ল্যঙ্গুয়েজ, তবে এটি কোন প্রোগ্রামিং ল্যঙ্গুয়েজ নয়। HTML এ যেমন Tag এবং attribute আছে, একইভাবে XML এ Tag এবং attribute আছে। পার্থক্য হচ্ছে, HTML এর Tag গুলো (যেমন body, h1, p ইত্যাদি) নির্দিষ্ট করা থাকে , আর Xml এ আপনি নিজের ইচ্ছেমত element/tag বানাতে পারবেন। HTML এর সাথে XML এর বড় একটা পার্থক্য হচ্ছে XML এ attribute দিয়ে এলিমেন্টের ভিতর কি ডেটা আছে সেটা বর্ননা করা যায়, HTML এ এমন সুবিধা নেই। তাছাড়া HTML বানানো হয়েছে ব্রাউজারে Data প্রদর্শনের জন্য আর XML মুলত বানানো হয়েছে ডেটা সংরক্ষণ এবং এই ডেটা অন্য সিস্টেমের সাথে আদান প্রদান করার জন্য।

Android Studio Software : বর্তমান বিশ্বে App development এর মাধ্যমে নিজেদের সফল ক্যারিয়ার গড়তে পেরেছেন এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছে। আর তাই যদি আপনিও এই সেক্টরে আসতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে বলবো নিসন্দেহে আপনি কোনো খারাপ সিদ্ধান্ত নেন নি।

App Development নিয়ে রিসার্চ করলে নিশ্চই Android Studio এর নাম শুনে থাকবেন। এটি এমন একটি সফটওয়্যার যেটিকে ব্যবহার করে আপনি আপনার প্রথম অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে ফেলতে পারবেন।

Web Development : Web Development নিয়ে আমাদের একটি ব্লগ আছে যেটি

আমাদের ওয়েবসাইটে আছে । এই লিংকে গিয়ে দেখে আসুন Web Development এর A to Z.

React Native : React Native হলো Javascript-র একটি Framework যেটি ব্যবহার

Android & IOS অ্যাপস বানানো সম্ভব । বর্তমানে React Native র প্রচুর জনপ্রিয়

হয়ে উঠেছে । ফেসবুকে কর্মরত সময়ে রিয়েক্টজেএস (ReactJS) এর জনক Jordan

Walke জাভাস্ক্রিপ্ট থ্রেড থেকে iOS এর জন্য ইউজার ইন্টারফেস (UI) এলিমেন্টগুলো তৈরি করার একটি উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন যা রিয়েক্ট এর ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ফেসবুক ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রিয়েক্ট.জেএস (React.js) এর সম্মেলনে রিয়েক্ট নেটিভ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে এটিকে ওপেন-সোর্স করে দেয়া হয়। ফলে বহু ডেভেলপার এর সংস্করণে কাজ করেছে এবং করে যাছে।

শেষ কথা : Mobile Apps Development সুন্দর একটি ক্যারিয়ার গড়ার জন্য বেস্ট চয়েজ । একজন Mobile Apps Developer এর বেতন মাসে প্রায় ৫০০০-৮০০০ ডলার যেটা বাংলা টাকাই ৪+ লাখ টাকা । তাই বর্তমানে Mobile Apps Development র চাহিদা আকাশছোঁয়া ।

ধন্যবাদ সবাইকে ।