মাদারবোর্ড শব্দটার সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর কথা আসলেই মাদারবোর্ড শব্দটি শোনা যায়। আসলে মাদারবোর্ড কী? কিভাবে কাজ করে এই মাদারবোর্ড তাই জানব আমাদের আজকের মাদারবোর্ডের ময়নাতদন্তে।

যদি নিজের ভাষায় বলি তাহলে মাদারবোর্ড হচ্ছে কম্পিউটারের এমন একটা যন্ত্রাংশ যা পুরো কম্পিউটারের অন্যান্য যন্ত্রাংশগুলোকে একটার সাথে আরেকটা যুক্ত করে। আর যদি বইয়ের ভাষায় বলি তাহলে মাদারবোর্ড হচ্ছে কম্পিউটারের মেইন সার্কিট বোর্ড, যা কম্পিউটারের সমস্ত কম্পোনেন্টগুলো কে একে অপরের সাথে কানেক্ট করে।

মাদারবোর্ড কত প্রকার ও কি কি ?

কম্পিউটার মাদারবোর্ড ৫ প্রকার হয়ে থাকে। এগুলোর ব্যবহার, আকার, ক্ষমতা একটি অপরটির থেকে ভিন্ন।

পাঁচ প্রকারে মাদারবোর্ড গুলো হলো

মাদারবোর্ডের দাম কত ?

বাজারে অনেক ধরনের মাদারবোর্ড পাওয়া যায়। এর মধ্যে বহুল পরিচিত কিছু মাদারবোর্ডের দামের ধারনা নিচে দেওয়া হলো।

  • Asus Expedition EX-B560M-V5 Intel M-ATX Motherboard ১১,৬০০ টাকা।
  • Gigabyte GA-H61M-DS2 3rd / 2nd Gen Micro ATX PC Mainboard ৫,০০০ টাকা।
  • MSI B450M Mortar Max Gaming Motherboard ৯,৩০০ টাকা।
  • Gigabyte GA-B85M-D3V-A Intel 4th Gen Motherboard ৪,৫০০ টাকা।
  • Gigabyte B550 Aorus Elite AX V2 Motherboard ১১,৬০০ টাকা।
  • Asus Prime B450M-A AMD Motherboard ৮,৯০০ টাকা।

এইতো গেল মাদারবোর্ডের সংজ্ঞা এখন এটি আসলে কাজ কিভাবে করে তাই জানবো।

মাদারবোর্ড মূলত দুই (২) অংশে বিভক্ত

  • নর্থব্রিজ – নর্থব্রিজ উচ্চ গতির যন্ত্রাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। উচ্চ গতির যন্ত্রাংশগুলো হলো:- প্রসেসর, র‍্যাম, গ্রাফিক্স কার্ড।
  • সাউথব্রিজ – সাউথব্রিজ কম গতির যন্ত্রাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। নিম্ন গতির যন্ত্রাংশগুলো হলো:- বিল্ট-ইন-পোর্ট, PCI স্লট, I/O ডিভাইস।

মাদারবোর্ডের বিভিন্ন অংশ ও তার পরিচিতি

মাদারবোর্ড কি বা মাদারবোর্ড কাকে বলে এই বিষয় আপনি জেনে গেছেন। এখন মাদারবোর্ডের বিভিন্ন অংশের সাথে পরিচিত হবো।

  • সিপিইউ স্লট (CPU Slot) সাদা রঙ্গের চারকোনা একটি বোড। যেখানে সিপিইউ বা প্রসেসর বসানো হয়। মাদারবোর্ডে dule core, core i3, core i5 জেনারেশন প্রসেসর বসানো যায়।
  • সিপিইউ ফ্যান ও হিটসিংক (CPU fan & Heatsink) সিপিইউকে ঠান্ডা করার জন্য কুলিং ফ্যান বা হিটসিংক বসাতে হয়।
  • পাওয়ার সংযোজক (Power Connector) মাদারবোর্ডে যত ইলেক্ট্রনিক পাওয়ার প্রয়োজন সেটা এই পিনের মাধ্যমে ট্রানফার করা হয়।
  • র‍্যাম স্লট (Ram slot) এখানে র‍্যাম ইনস্টল করতে হয়। এখানে আপনি ২ জিবি, ৪ জিবি র‍্যাম ইনস্টল করতে পারবেন। এখানে আপনি দুইটা স্লট দেখতে পাচ্ছেন যার ফলে ভবিষ্যতে র‍্যাম বৃদ্ধি করে নিতে পারবেন।
  • আইডিই সংযোগ (IDE connector) আগে এই ডিভাইসের সাহায্যে হার্ডডিস্ক বা অপটিক্যাল ডিভাইস করত কিন্ত বর্তমানে এই কানেক্টর আর ব্যবহার করা হয় না।
  • এজিপি স্লট (AGP slot) এই স্লটে গ্রাফিক্স কার্ড ইনস্টল করতে হয়। আপনি যদি কম্পিউটার হাই গ্রাফিক্স গেম খেলতে চান তাহলে এখানে এক্সটার্নাল গ্রাফিক্স কার্ড ইনস্টল করতে হবে।
  • সিআইপি স্লট (CIP slot) এখানে এক্সাট্রা সাউন্ড কার্ড, WiFi Card, ভিডিও কার্ড, নেটওয়ার্ক কার্ড ইত্যাদি যুক্ত করতে পারবেন।
  • সিমস ব্যাটারি (CMOS Battery) এই ব্যাটারির সাহায্যে কম্পিউটারের ডেট, টাইম আপডেট থাকে। 
  • অডিও পোর্ট (Audio port) নীল, সবুজ এবং গোলাপি রঙের যে ৩টি পোর্ট এটাকে অডিও পোর্ট বা 3.1 অডিও জ্যাক বলে। এখানে আপনি হেডফোন, মাইক, স্পিকার যেকোনো কিছু লাগাতে পারবেন।
  • ইউএসবি পোর্ট (USB port) যেকোনো সাব ডিভাইস এই USB port ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন মাউস, কীবোর্ড, পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড ইত্যাদি।
  • ইথারনেট পোর্ট (Ethernet port) কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ করতে হলে এই ইথারনেট পোর্টের মাধ্যমে ল্যান ক্যাবল কানেক্ট করতে হবে।
  • প্যারালাল পোর্ট (parallel port) গোলাপি রঙের এই পোর্টকে বলা হয় প্যারালাল পোর্ট। এই পোর্টের মাধ্যমে আপনি যেকোনো প্রিন্টার কম্পিউটার সাথে যুক্ত করতে পারবেন।
  • ভিজিএ পোর্ট (VGA port) ভিজিএ পোর্টের মাধ্যমে কম্পিউটারের মনিটর বা LCD যুক্ত করতে হয়। VGA Port দেখতে কালো রঙের হয়।

যদি মাদারবোর্ড নষ্ট হয়ে যায় তখন !!

আপনি যখন নষ্ট মাদারবোর্ড ঠিক করার জন্য কোনো মেকানিকের কাছে যাবেন, তখন হয়তো সেটা ঠিক করার জন্য ১৫ হাজার টাকা চাইতে পারে। যদিও মাদারবোর্ড ঠিক করা যায় কিন্ত আপনি ঠিক করতে যত টাকা লাগবে তার সাথে আর কিছু টাকা দিয়ে নতুন একটি মাদারবোর্ড ক্রয় করুন।

এই ছিল আমাদের আজকের ময়নাতদন্ত। ভবিষ্যতে অন্য কোন যন্ত্রাংশের ময়নাতদন্ত নিয়ে আসবো। ততক্ষণ পর্যন্ত সাবধান থাকুন সুস্থ থাকুন আর Codex Devware এর সাথে থাকুন। ব্লগটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার পরিচিত জনদের সাথে শেয়ার করুন।

আমি Iftakhar Ahmed আজ বিদায় নিচ্ছি এখান থেকে। ধন্যবাদ সবাইকে (: